২০১৮ সালের মে মাসের এক তপ্ত দুপুর। ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা, পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরিয়ান তার ল্যাপটপের সামনে বসে ছিলেন। কৌতূহলের বশে তিনি সেদিন প্রথমবার ডার্ক ওয়েবে (ইন্টারনেটের অন্ধকার জগৎ) প্রবেশ করেন। জাস্ট দেখার জন্য যে সেখানে কী হয়। কিন্তু তিনি জানতেন না, এই একটা ভুল তার জীবনকে নরক বানিয়ে দেবে।
ব্রাউজ করতে করতে আরিয়ানের সামনে একটা অদ্ভুত ওয়েবসাইট আসে, যেখানে লেখা ছিল—"আমরা আপনার অতীত এবং ভবিষ্যৎ জানি। পরীক্ষা করতে চাইলে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।" আরিয়ান এটাকে স্রেф একটা ভুয়া প্র্যাঙ্ক ভেবে নিজের নাম আর ঠিকানা দিয়ে 'অর্ডার' বাটনে ক্লিক করে বসেন। কোনো টাকা লাগেনি, পুরো প্রসেসটাই ছিল ফ্রি। আরিয়ান ভেবেছিলেন, ব্যস, গল্প এখানেই শেষ।
কিন্তু আসল খেলা শুরু হলো ঠিক তিন দিন পর।
তখন রাত ২টো। পুরো এলাকা নিঝুম। হঠাৎ আরিয়ানের ফ্ল্যাটের কলিং বেলটা বেজে উঠল। এই অসময়ে কে আসতে পারে? দরজা খুলে আরিয়ান দেখলেন বাইরে কেউ নেই, শুধু ফ্লোরে পড়ে আছে একটা কালো রঙের ছোট পার্সেল। পার্সেলের গায়ে কোনো প্রেরকের নাম নেই, শুধু একটা লাল কালিতে লেখা—"আরিয়ান।"
বুক ধড়фড়ানি নিয়ে আরিয়ান পার্সেলটা ঘরের ভেতরে নিয়ে এলেন। কাঁচি দিয়ে সাবধানে প্যাকেটটা কাটতেই উনার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। প্যাকেটের ভেতরে ছিল:
১. একটা পুরনো মরচে পড়া চাবি।
২. একটা ভাঙা হাতঘড়ি, যার কাঁটা রাত ২টা ১০ মিনিটে আটকে আছে।
৩. আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জিনিস—আরিয়ানের নিজের একটা ছবি, যা ঠিক ১০ মিনিট আগে উনার অজান্তে জানালার বাইরে থেকে কেউ তুলেছিল!
ছবির পেছনে ছোট করে লেখা ছিল—"সময় ফুরিয়ে আসছে।"
আরিয়ান ভয়ে জানালার দিকে তাকালেন, কিন্তু বাইরে ঘুটعوটে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ঠিক তখনই উনার ফোনে একটা অচেনা বিদেশি নাম্বার থেকে মেসেজ এলো: "চাবিটা মনে আছে আরিয়ান? সাত বছর আগের সেই রেললাইনের ধারের পরিত্যক্ত কেবিনটার কথা?"
মেসেজটা পড়ামাত্রই আরিয়ানের কপালে ঠাণ্ডা ঘাম জমে গেল। সাত বছর আগে, college জীবনে বন্ধুদের সাথে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল, যা তারা police কে না জানিয়ে চিরতরে মাটিচাপা দিয়েছিলেন। ডার্ক ওয়েবের এই মানুষটি কীভাবে সেই সত্যটা জেনে গেল? আর এই চাবিটা কি সেই কেবিনেরই?
আরিয়ান বুঝতে পারলেন, তিনি কোনো সাধারণ হ্যাকারের পাল্লায় পড়েননি। ডার্ক ওয়েবের সেই সাইটটি আসলে কোনো সাধারণ সাইট ছিল না, ওটা ছিল একটা ভয়ঙ্কর সাইকোপ্যাথ গ্রুপের পাতা ফাঁদ। যারা মানুষের জীবনের অন্ধকার অতীত খুঁজে বের করে তাদের নিয়ে এক নিষ্ঠুর খেলা খেলে।
আজও রাত ২টা ১০ মিনিট বাজলে আরিয়ানের ঘরের কলিং বেলটা বেজে ওঠে। কিন্তু তিনি আর দরজা খোলার সাহস পান না। কারণ তিনি জানেন, দরজার ওপাশে কোনো মানুষ নেই, ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে উনার অতীত, যা উনাকে শাস্তি দিতে এসেছে।
(ডার্ক ওয়েব নিয়ে কৌতূহল ভালো, কিন্তু মনে রাখবেন—আপনি যখন অন্ধকারের দিকে তাকাবেন, অন্ধকারও কিন্তু আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে!)
📌 পরামর্শ: ডার্ক ওয়েবের এরকম আরও বাস্তব ও হাড়হিম করা অপরাধের কাহিনী এবং সাইবার সিকিউরিটি টিপস জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:
👉 ডার্ক ওয়েবের ভয়ঙ্কর সব সত্য ঘটনা ও রহস্যের খতিয়ান দেখুন এখানে
